নওয়াব আলী হোমিও চিকিৎসালয় (ডাঃ নওয়াব আলী প্রফেসরের বাসা), ৩৬৬, বালুবাগান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
+৮৮০-১৭২০-৬৬৭১১৭
মিথ্যাবাদী (Liar)

নিজের সুবিধা আদায় অথবা অন্যের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে মৌখিকভাবে, লিখিতভাবে অথবা অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে সত্যকে গোপন করে অসত্যকে উপস্থাপন করাই মিথ্যা। আর যে এই কাজটি করে তাকে মিথ্যাবাদী বলা হয়। সাধারনত, নিজের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে অথবা অন্যকে প্রতারিত বা বিপদে ফেলার উদ্দেশ্যে অথবা নেহায়েতই কথার ছলে মানুষ মিথ্যার আশ্রয় গ্রহন করে।

একজন শিশু ভূমিষ্ট হওয়ার পর সে স্বাভাবিকভাবে যেমন, হাঁটতে, বলতে, চলতে শেখে; ঠিক সেভাবেই সে পরিবার, পরিবেশ এবং পারিপার্শিক অবস্থা থেকে স্বতঃস্ফুর্ত “মিথ্যা কথা” বলতেও শেখে, যদিও মিথ্যা বলাটা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি নয়।

মিথ্যাবাদীর প্রকারভেদ (Classification of Liar)

শৈশবকালে মিথ্যা বলাটা নিতান্তই শাস্তি পাওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা অথবা কোন কাঙ্খিত বস্তু বা লক্ষ্য অর্জনের জন্য বলা হয়ে থাকে, অন্যের সাথে প্রতারণা অথবা অন্যকে বিপদগ্রস্থ করার মানসিকতা, সাধারণতঃ শৈশবকালীন মিথ্যাবাদীতার মধ্যে থাকে না। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তা যদি অসংযতমূলক আচরণ হয়ে ওঠে তবে সেটি ব্যক্তি, পরিবার এবং পারিপার্শিকতার পরিপন্থি হয়ে ওঠে এবং অনেকসময় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আশার কথা, বয়স বাড়ার সাথে সাথে অধিকাংশ মানুষ মিথ্যা বলার অপকারীতা সম্পর্কে সজাগ হতে শুরু করে এবং বুঝতে পারে যে, নিজস্ব স্বার্থ হাসিল বা অন্যের সাথে প্রতারণা বা অন্যকে বিপদগ্রস্থ করার মানসিকতা নিয়ে মিথ্যা বলাটা ধর্মীয় এবং রাষ্ট্রীয় আইনানুযায়ী অপরাধ।

তারপরেও মানুষ মিথ্যা বলে। এবং পৃথিবীর সব মানুষই কম-বেশী মিথ্যা বলে। এবং পৃথিবীর অনেক মানুষই সত্যকে গোপন করে (মিথ্যা না বললেও)।

মিথ্যা দুই ধরণের, যথা,

ক্ষতিকর মিথ্যা (Harmful lie): যা জ্ঞাতে বা অজ্ঞাতে অন্যের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়। এবং

নির্দোষ মিথ্যা (Harmless lie):  যা কেবল Victim এর উদ্দেশ্য সাধনের জন্য ব্যবহার করা হয় এবং অন্যের ক্ষতির কোন সম্ভাবনা থাকে না।

কারন (Causation)

. মায়াজম সংক্রান্তকারন,

    ►. ক্ষতিকর মিথ্যা (সাইকোসিস)।

    ►. নির্দোষ মিথ্যা (সোরা)।

. শৈশবকালে,

    ►. অন্যের সহানুভূতি পাওয়ার আশা।

    ►. কোন ভুল করলে।

    ►. শাস্তি পাওয়ার ভয়।

    ►. কোনকিছু পাবার আকাঙ্খা।

    ►. মনোযোগ আকর্ষনের চেষ্টা।

. কৈশোরকালে,

    ►. অপরাধ গোপন করার উদ্দেশ্যে।

    ►. কোন ভুল করলে।

    ►. শাস্তি পাওয়ার ভয়।

    ►. মনোযোগ আকর্ষনের চেষ্টায়।

    ►. সমবয়সীদের উপর কতৃত্ব করার আশায়।

. প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে,

    ►. উদ্দেশ্য হাসিল বা স্বার্থস্বিদ্ধি।

    ►. অপরাধ গোপন করার উদ্দেশ্যে।

    ►. অন্যের ক্ষতি বা অপকার করার উদ্দেশ্যে।

    ►. অন্যের মনোযোগ আকর্ষনের উদ্দেশ্যে।

    ►. জনপ্রিয়তা পাওয়ার উদ্দেশ্যে।

    ►. মানসিক রোগজনিত কারন, যথা

          ↳. ফ্যাক্টিশিয়াস ডিজঅর্ডার (Factitious disorder) বা ম্যাঞ্চুসেন সিনড্রোম (Manchausen syndrome)।

          ↳. সিউডোলোজিয়া ফ্যান্টাসটিকা (Pseudologia fantastica)।

          ↳. বর্ডারলাইন পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার (Borderline personality disorder)।

কারা অধিক আক্রান্ত হন (More prone to)

  • ৪ বছর বয়স থেকে শুরু করে যে কোন বয়সী মানুষ মিথ্যাচার করতে পারে।
  • নারী এবং পুরুষ উভয়ের গড় অনুপাত সমান।
  • বিশ্বের কিছু রাষ্ট্রে মিথ্যা বলার হার বেশী (চীন, কোরিয়া, লিবিয়া, নাইজেরিয়া ইত্যাদি), আবার কিছু রাষ্ট্রে মিথ্যা বলার হার কিছুটা কম (ইকুয়েডোর, নেপাল, ভারতের কিছু প্রদেশ, ভারতীয় উপমহাদেশের কিছু দেশ, ইন্দোনেশিয়া, ফ্রান্স, কানাডা, নিউজিল্যান্ড ইত্যাদি)।
  • সভ্য মানুষ অপেক্ষা আদিবাসিদের মধ্যে মিথ্যা বলার প্রবনতা অপেক্ষাকৃত কম।
  • বিশেষ কিছু পেশার মানুষ “সচেতন”ভাবেই মিথ্যার আশ্রয় নিতে বাধ্য হন বা নিয়ে থাকেন।

প্রকারভেদ (Classification)

অনেক প্রকারের মিথ্যাবাদী আছে, যাদের মধ্যে ৫ প্রকারের মিথ্যাবাদী প্রধান।

①. অসামাজিক মিথ্যাবাদী (Sociopathic liars)

এরা এমন ধরনের মিথ্যাচারী, যারা একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য ক্রমাগত মিথ্যা বলতেই থাকে এবং একটি মিথ্যাকে চাপা দিতে গিয়ে আরেকটি মিথ্যার আশ্রয় গ্রহন করতে থাকে। অন্যের সুবিধা অসুবিধার প্রতি এদের কোন খেয়াল থাকে না। এরা সাধারনতঃ ঝগড়াটে, বদমেজাজী এবং ক্রর প্রকৃতির হয়। প্রায়-ই এরা বিভিন্ন সমাজবিরোধী এবং অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকে।

②. অভ্যাসগত মিথ্যাবাদী (Habitual liars)

এরা Compulsive liars এবং Pathological liars এর অর্ন্তভূক্ত। এরা কোন কারন ছাড়াই, নিছক কথার কথা হিসাবে অবিরত মিথ্যা কথা বলতেই থাকে এবং বিভিন্নভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে অকারণে মিথ্যা বলে। এরা মাঠে আড্ডা দেয়া অবস্থায় বলতে পারে, “একটা গুরুত্বপূর্ন মিটিং-এ আছি”, অফিসে না থেকে বলবে “অফিসে আছি।”

এছাড়াও এরা নিজেকে জাহির করার জন্য বিভিন্নরকম গল্প বানিয়ে মিথ্যা বলে, “আমার সাথে অর্থমন্ত্রীর দারুন সম্পর্ক” “স্বাস্থ্যমন্ত্রী আমার মামা হন” “গতকাল এমপি সাহেক আমাকে না খাইয়ে ছাড়বেই না“চেয়ারম্যান সাহেব একেবারে দাঁড়িয়ে গিয়ে আমাকে বললো - আরে আপনি আমার চেয়ারে বসেন”  ইত্যাদি ইত্যাদি। অনেকসময় এরা নিজেদের রোগ সর্ম্পকে মিথ্যা মনগড়া কথা বলে। “ডাক্তার বলেছেন, আমার দু’টো কিডনীই ড্যামেজ হয়ে গেছে”, “হার্টের ভাল্ভ শেষ” ইত্যাদি।

③.কদাচিৎ মিথ্যাবাদী (Occasional liars)

এরা কদাচিৎ মিথ্যা কথা বলে। মিথ্যা বলার সময় এরা খুব প্রফুল্ল এবং স্বতঃস্ফূর্তবোধ করে কিন্তু পরে অপরাধবোধে ভোগে। মিথ্যা বলার পর এরা প্রায়ই ক্ষমা চেয়ে নেয় বা ভূল স্বীকার করে।

④. সচেতন মিথ্যাবাদী (Careless liars)

এরা সুযোগ সুবিধা মতো মিথ্যা কথা বলে, মিথ্যা বলার সময় এরা ততটা সতর্কতা অবলম্বন করে না, নির্ভিক কন্ঠে মিথ্যা কথা বলে এবং সেইসময় কেউ যদি এদের চ্যালেঞ্জ করে তবে এরা তার কোন প্রতিবাদ করে না বা করলেও মিনমিনে গলায় করে। এরা মিথ্যা বলার পর সেটা ভুলে যায় অথবা ভুলে যাওয়ার ভান করে এবং মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয়, নিজের স্বার্থের জন্য এরা মানুষকে প্রলোভিত করে, আশ্বস্ত করে, “রাস্তা করে দেবো”, “একজন-ও বেকার থাকবে না”, “সবসময় তোমাদের সাথে ছায়া হয়ে থাকবো”  কিন্তু স্বার্থ ফুরিয়ে গেলে এরা তাদের দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে না।

⑤. পরিস্কার মিথ্যাবাদী (White liars)

প্রচুর মিথ্যা বলে কিন্তু এরা মনে প্রানে বিশ্বাস করে যে এরা যা বলছে তার একটি বর্ণও তারা মিথ্যা বলছে না। এরা বিশ্বাস করে যে, “এইধরনের মিথ্যা বলার প্রয়োজন আছে এবং পরিবেশ, ব্যক্তি, সমাজ ও পারিপার্শিক অবস্থার জন্য এই মিথ্যাকথা বলাটা খুবই জরুরী। কখনো কখনো এরা আংশিক সত্যর সাথে মিথ্যাকে সংযুক্ত করে বানিয়ে বলে এবং অনেকসময় কৌশল বা ঢাল হিসাবে এমন কাউকে ব্যবহার করে বা নাম নেয় যাঁকে সবাই বিশ্বাস করে।

ক্লিনিক্যাল ফিচারস্ (Clinical features)

লক্ষন (Symptoms)

মিথ্যা বলা একটি মানসিক অবস্থা। কোন ব্যক্তির মিথ্যাচার ধরা না পড়লে যেমন তাকে অভিযুক্ত করা যায় না, তেমনই কখনো কোন মিথ্যাবাদী সাধারনতঃ চিকিৎসককে এসে বলে না যে, “আমি কথায় কথায় মিথ্যা বলি, আমাকে এমন একটি চিকিৎসা দিন যাতে আমি মিথ্যা বলা বাদ দিয়ে সত্য বলতে পারি।”

একজন চিকিৎসককে ব্যক্তির আচারণ, অভ্যাস, কথাবলার ধরন দেখে বুঝে নিতে হবে যে রোগী মিথ্যাচার করছে কিনা। কিছু শারিরীক অবস্থা এবং বৈশিষ্ট্য ছাড়া সুনির্দিষ্টভাবে বলা কষ্টসাধ্য যে Victim মিথ্যা নাকি সত্য বলছে। তবে মিথ্যা বললে কিছু বৈশিষ্ট্যসূচক লক্ষন ও চিন্থ (Symptoms and signs) দেখা দেয় যা (সবার ক্ষেত্রে না হলেও) অধিকাংশ ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রকাশিত হয়, যেমন,

   ►. সরাসরি চোখে চোখ রেখে মিথ্যা বলতে পারবে না।

   ►. সত্য উদ্ঘাটনের জন্য তাকে যে প্রশ্ন করা হবে, সে প্রশ্নটিই সে বারবার পুনরাবৃত্তি করবে।

   ►. বারবার মূল প্রসঙ্গ থেকে অন্য কোন প্রসঙ্গে যেতে চাইবে বা প্রসঙ্গ পরিবর্তন করতে চাইবে।

   ►. সত্যের মুখোমুখি হতে চাইলে বিভিন্ন অজুহাত দেখাবে।

   ►. থেমে থেমে কথার উত্তর দেবে (চিন্তা করে জবাব দিতে হয় বলে)। আত্মবিশ্বাসের সাথে একসাথে সব কথা বলবে না।

   ►. কন্ঠস্বর পরিবর্তন হয়ে যাবে এবং দ্রুত কথা বলার চেষ্টা করবে।

   ►. “ পেছন দিক থেকে বলো” অর্থাৎ ঘটনার বর্ননা দেয়ার সময় উল্টোভাবে অর্থাৎ বিপরীতক্রমে তার কার্যক্রম বলতে পারবে না, হয় খুব ভেবে চিন্তে বলবে অথবা প্রথমবারের বর্ননার সাথে দ্বিতীয়বারে (বিপরীত ক্রমের) বর্ননার মিল পাওয়া যাবে না।

   ►. প্রশ্নের উত্তর দেয়ার সময় শরীরের বিভিন্ন স্থান, বিশেষভাবে কান, মাথা, গাল, হাত চুলকাবে অথবা ঠোঁট কামড়াবে, দাঁত দিয়ে নখ কাটবে (বিশেষতঃ শিশুরা)।

   ►. ঘনঘন চোখের পলক ফেলবে বা চোখ পিটপিট করবে (বিশেষতঃ শিশুরা)।

   ►. উসখুস করবে (বিশেষতঃ শিশুরা)।

   ►. কথায় জড়তা এবং আড়ষ্টতা দেখা দিবে এবং তোতলামী করবে (বিশেষতঃ শিশুরা)।

   ►. যারা Habitual বা Pathological liars তাদের আচার আচরণের মধ্যে দাম্ভিকতা পাওয়া যাবে।

       ↳ . বাইরে এরা দামী পোশাক পরিধান করে অথচ ঘরে খাবার নেই।

       ↳ . নিজেকে জাহির করার চেষ্টা করে এবং সবসময় আত্মপ্রশংসা করে।

       ↳ . নেতাসূলভ আচরণ প্রদর্শন করবে।

►. সত্য উদ্ঘাটন হয়ে গেলে Victim রেগে যাবে এবং চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করবে অথবা কান্না জুড়ে দেবে।

ব্যবস্থাপনা (Management)

♦. অবশ্যই লক্ষন সাদৃশ্যে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ নির্বাচন করতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে, মিথ্যা বলার অভ্যাস ত্যাগ করার প্রবল ইচ্ছা না থাকলে, কেবল চিকিৎসার মাধ্যমে মিথ্যাবাদীকে শতভাগ সত্যবাদী করে তোলা সম্ভব নয়। এজন্য চিকিৎসার পাশাপাশি তাকে Counsel করতে হবে এবং মিথ্যা বলার খারাপ দিকগুলো বুঝিয়ে বলতে হবে।

♦. প্রথমতঃ খুব ধীরে ধীরে হলেও মিথ্যা বলা পরিত্যাগ করতে হবে। এটা হয়ত একদিনে হবে না, কিন্তু কোন না কোন একদিন নিশ্চয়ই হবে।

♦. মিথ্যা অপ্রতিরোধ্য কিন্তু অজেয় নয়। খুবই ছোট ছোট মিথ্যা বলা থেকে-ও সতর্ক থাকা উচিৎ। কিন্তু এটাও সত্য যে, সত্য বলা ভীষন কঠিন একটি কাজ।

♦. সত্যবচন অনেকসময় মানুষকে কষ্ট দেয়, মর্মাহত করে - এই কারনে কোনক্ষেত্রে, কতটুকু, মিথ্যা বলা উচিৎ তা সকল ধর্ম পুস্তকেই লিপিবদ্ধ আছে। এজন্য বেশী বেশী ধর্মীয় পুস্তক পাঠ করতে হবে। তাতে জ্ঞান যেমন বিকশিত হবে তদ্রুপ নৈতিক শীক্ষাও অর্জন হবে এবং মিথ্যা বলার প্রবনতা কমতে থাকবে।

♦. মিথ্যা বলার পূর্বে ভাবুন, পরবর্তীতে এই মিথ্যা আপনাকে কতটা লজ্জিত এবং অপমানিত করতে পারে। একজন মিথ্যাবাদী একটি মিথ্যাকে ঢাকতে গিয়ে আরেকটি মিথ্যার আশ্রয় নেয় এবং এভাবে চলতে থাকে। ফলাফল, তিলে তিলে গড়ে তোলা তার আত্মসম্মান, আভিজাত্য এবং ব্যক্তিত্ব মূহুর্তেই নষ্ট হয়ে যায়।

♦. মানুষ ভুলের উর্ধ্বে নয়, কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বলা অবশ্যই ভুল। সস্তা জনপ্রিয়তা এবং সাফল্য লাভের জন্য যারা মিথ্যার আশ্রয় নেয়, দিন শেষে তারা একটা চাপা দুঃখ এবং অপরাধবোধ নিয়েই শুতে যায়।

♦. মিথ্যা কথা বলা সবসময়ের জন্যই খারাপ। নিজে মিথ্যা বলা ত্যাগ করতে হবে এবং অন্যকেও মিথ্যা বলা থেকে নিরুৎসাহিত করতে হবে।

♦. প্রয়োজনে কৌশলে কথা বলতে হবে কিন্তু কখনোই সরাসরি মিথ্যা নয়।

♦. শিশুদের মিথ্যা এবং কাল্পনিক গল্প বলা থেকে, অভিভাবকদের বিরত থাকার পরামর্শ দিতে হবে, “একটা বিশাল বাঘ দৌড়াতে দৌড়াতে আসলো, এসে বললো তোমাকে খাবো”, “বাঘের ছিল পাঁচটা মাথা --” এসব মিথ্যা গল্প বলা থেকে সতর্ক থাকুন। তার পরিবর্তে বরং শীক্ষা, ধর্মীয়, জ্ঞানগর্ভমূলক এবং নৈতিকতামূলক গল্প শোনাতে শিখুন (আখেরে তাতে নিজেরও উপকার হবে)।

♦. শিশু মিথ্যা বললে তাকে মারধোর বা ভৎসনা না করে বরং মিথ্যা বলার খারাপ দিকটি তাকে বোঝান, সেইসাথে তার কাঙ্খিত বস্তুটি তাকে উপহার দিন।

♦. আঘাত, অপমান নয় - ভালবাসা এবং ভালো ব্যবহার দিয়েই মানুষকে জয় করা যায়। মিথ্যাচারীতা বন্ধের জন্য ভালবাসা এবং ভালো ব্যবহার দেয়ার পরামর্শ দিন।

বিশেষ দ্রষ্টব্য

লেখাটি চিকিৎসক, ছাত্র, দার্শনিক, মনোবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী ইত্যাদি পেশাদার ব্যক্তিদের জন্য উপযুক্ত। কাউকে ক্ষুদ্র বা হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এটি লেখা হয়নি।

ইতিকথা

মিথ্যাচারের প্রবণতা মানবজাতির একটি দুর্বল দিক যা শৈশব থেকেই গড়ে উঠতে থাকে। তবে এটি একটি সামাজিক অপরাধ এবং নৈতিকতার পরিপন্থী। প্রত্যেক মানুষকেই এই খারাপ অভ্যাস কাটিয়ে উঠতে হবে। সৌভাগ্যবশতঃ হোমিওপ্যাথিতে এর খুব ভাল চিকিৎসা রয়েছে। অতএব মিথ্যা বলার প্রবনতা মোকাবেলায় বা যে কোন সমস্যায় আপনার নিকটস্থ দক্ষ এবং অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। মনে রাখবেন, মিথ্যা শুধুমাত্র অস্থায়ী সাফল্য দিতে পারে, দীর্ঘমেয়াদে এর ফলাফল হবে বিনাশের।

About Author

One thought on “মিথ্যাবাদী (Liar)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *