বেল্’স পাল্সি একধরনের মুখমন্ডলের একদিকের পক্ষাঘাত (Paralysis)। VII Cranial nerve এর গোলযোগের কারনে এটি হয়ে থাকে। স্কটিশ সার্জন এবং নিউরোলজিষ্ট স্যার চার্লস বেল (Sir charles Bell) - এর নামানুসারে বেল’স পাল্সি বলা হয়।
এর অপর নাম ইডিওপ্যাথিক পেরিফেরাল ফেসিয়াল পাল্সি। এ রোগে মুখমন্ডলের একদিকের পেশীর সম্পূর্ন অথবা আংশিক অকার্যকারীতা দেখা দেয়।
মস্তিস্কের 7th ক্রেনিয়াল নার্ভ মুখমন্ডলের পেশীগুলোর নড়াচড়া নিয়ন্ত্রন করে। কোনকারনে এই নার্ভ ক্ষতিগ্রস্থ হলে অথবা নার্ভের উপর বাহ্যিক অথবা আভ্যান্তরীন চাপ সৃষ্টি হলে তা মুখমন্ডলের পেশীতে সঠিকভাবে সংকেতের আদানপ্রদান করতে পারে না এবং মুখমন্ডলের পেশীর নিয়ন্ত্রন ক্ষমতায় বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, ফলে Bell's palsy দেখা দেয়। এটি সচরাচর দৃষ্ট স্নায়ুসংক্রান্ত গোলযোগের অন্যতম একটি।
⮊. কারন (Causation)
⮚. (অন্যতম কারন),
☑. প্রকৃত কারন অজানা।
☑. 7th ক্রেনিয়াল নার্ভ এ আঘাত বা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া।
☑. 7th ক্রেনিয়াল নার্ভ এর প্রদাহ।
☑. মাথায় প্রচন্ড আঘাতজনিত 7th ক্রেনিয়াল নার্ভ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া।
☑. এ্যকুয়িস্টিক নিউরোমা (Acoustic Neuroma)।
☑. ফেসিয়াল স্কোয়ানোমা (Facial schwannoma)।
☑. অতীতে হার্পিস জোস্টার সংক্রামনের ইতিহাস।
☑. র্যমসে হান্ট সিনড্রোম (Ramsay Hunt Syndrome)।
☑. গিলান-ব্যরি সিনড্রোম (Guillain-Barre Syndrome)।
☑. মাণ্টিপল স্কে¬রোসিস (Multiple Sclerosis)।
☑. ম্যনিন্জিওমা (Meningioma)।
⮚. (অনেকের মতে),
☑. মানসিক আঘাত ও অশান্তি।
☑. হঠাৎ ঠান্ডা লাগানো, ইত্যাদি এ রোগ হতে সহায়তা করে।
⮊. কারা অধিক আক্রান্ত হন (More Prone To)
যে কেউ যে কোন বয়সে আক্রান্ত হতে পারেন, তবে ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সীরা অধিক আক্রান্ত হন।
নারী ও পুরুষের গড় অনুপাত সমান।
সাধারনত: ডানদিক অধিক আক্রান্ত হয়, তবে বামদিকও হতে পারে।
⮚. ক্লিনিক্যাল ফিচার (Clinical Features)
⮲. লক্ষন (Symptoms)
►. হঠাৎ আক্রান্ত হবে।
►. তবে কারো কারো ক্ষেত্রে ক্রমান্বয়ে এবং ধীরে ধীরে এক সপ্তাহের মধ্যে লক্ষনগুলো প্রকাশ পেতে পারে।
►. আক্রান্ত দিকের মুখের পেশীতে অনুভূতিহীনতা বা অনুভূতি কম হওয়া অন্যতম লক্ষন।
►. আক্রান্ত দিকের মুখ বাঁকা হয়ে যাবে।
►. আক্রান্তদিকের ঠোঁটের কোনা ঝুলে যাবে।
►. আহারের পর ঠোঁট এবং দাঁতের মাঝামাঝি খাবার আঁটকানো অবস্থায় পাওয়া যাবে।
►. আক্রান্ত দিকের মুখমন্ডলের পেশীর উপর কোন নিয়ন্ত্রন থাকবে না।
►. আক্রান্ত দিকের চোখ বন্ধ হবে না বা সুস্থ দিকের চোখ সম্পূর্ন বন্ধ হলেও আক্রান্ত দিকের চোখ খোলা বা আধাবোঁজা অবস্থায় থাকবে, অথবা সম্পূর্ন বুঁজে থাকবে, খুলতে পারবে না।
►. আক্রান্ত দিকের চোখ দিয়ে জল ঝড়বে এবং বাতাসের ঝাপটা সহ্য হবে না।
►. জলপান করার সময় ঠোঁটের কোনা দিয়ে জল গড়িয়ে পড়বে।
►. জিহ্বায় জড়তা দেখা দিতে পারে।
►. বারবার মুখ শুকিয়ে যাবে (Xerostomia)।
►. মুখের ভেতরে জ্বালা অথবা অস্বস্তিকর এবং অবশকরা অনুভূতি হতে পারে।
►. আক্রান্তদিকে খাদ্যের স্বাদ কম পাওয়া অথবা না পাওয়া থাকতে পারে।
►. অতীতে সংক্রামন বা আঘাতের কোন ইতিহাস ছাড়াই আক্রান্তদিকের কানে ব্যথা হতে পারে।
►. মুখ দিয়ে লালাক্ষরন হতে পারে।
⮲. চিন্থ (Sign's)
►. মুখের একদিকের বাঁকাভাব। মুখাভঙ্গি র্নিলিপ্ত। আবেগে সাড়া দেয় না।
►. আক্রান্তদিকের কপাল ভাঁজহীন।
►. দাঁতে দাঁত ঠেকিয়ে ঠোঁট দু’টোকে টান টান করতে বললেআক্রান্তদিকের ঠোঁট প্রসারিত হবে না।
►. চোখ দিয়ে জল ঝড়া এবং চোখ বন্ধ করতে না পারা।
►. ফুঁ দিতে বললে ঠোঁট বাঁকা হয়ে যাওয়া।
ব্যবস্থাপনা (Management)
- রোগীকে আশ্বস্ত করতে হবে।
- সাধারনত: ৭০% রোগী প্রায় ৮ সপ্তাহের মধ্যে আরোগ্য লাভ করেন। ৩০% রোগীর ক্ষেত্রে সূদীর্ঘদিন চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার পরেও কিছু সমস্যা (আক্রান্তদিকের মুখমন্ডলের আংশিক অবশতা, সবসময় চোখ দিয়ে জল ঝরা, মুখের পেশীর অনৈচ্ছিক কম্পন ইত্যাদি) থেকে সম্পূর্ন মুক্তি পান না। মনে রাখতে হবে, একে অনেকে স্ট্রোক্ বলে ভুল করেন, কিন্তু স্ট্রোকের সাথে বেল’স পাল্সির সরাসরি কোন সম্পর্ক নেই।
- দীঘদিন বেল’স পাল্সিতে ভুগলে কর্নিয়াল আলসার হবার সমূহ সম্ভাবনা থাকে, এজন্য অবশ্যই চোখের যথাযথ যত্ন নিতে হবে।
- দাঁত ও মুখগহ্বরের নিয়মিত যত্ন নিতে হবে এবং প্রয়োজনে নিয়মিত Check up করাতে হবে।
- মুখের ব্যয়াম করতে হবে (হাতের তালু দিয়ে উপরদিকে টান দিয়ে)।
- চাল ভাজা অথবা Chewing gum চিবুলে মুখের পেশীর ব্যয়াম হয় বলে অনেকে এটাকে নিয়মিত ব্যবহারের পরামর্শ দেন।
- প্রয়োজনে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার পাশাপাশি Physiotherapy চালানোর পরামর্শ দেয়া যেতে পারে।
প্যাথলজীক্যাল ইনভেষ্টিগেশান (Pathological investigations)
MRI Scan.
CT Scan of the brain.

যে কোন সমস্যায় আপনার নিকটস্থ দক্ষ এবং অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নিরাপদ ও সাশ্রয়ী।
আপনার সুস্বাস্থ্য ও সার্বিক মঙ্গল কামনায়,
বি.এইচ.এম.এস.
নওয়াব আলী হোমিও চিকিৎসালয়, বালুবাগান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
প্রাক্তন প্রভাষক, রহনপুর হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।

